এশিয়ার স্পট মার্কেটে কমেছে এলএনজির দাম

এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে কমেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম।

এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে কমেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। নিম্নমুখী চাহিদা দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এছাড়া রাশিয়ার জ্বালানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অথবা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ নিয়ে অনিশ্চয়তাও জ্বালানি পণ্যটির দাম কমার অন্যতম কারণ। খবর মার্কেট স্ক্রিনার।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৯০ সেন্ট। আগের সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১২ ডলার ১০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছিল।

গ্রীষ্মকালীন গ্যাস মৌসুমজুড়ে (এপ্রিল থেকে শুরু) বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও জুনে ইরানের হামলার সময় এক দফা বেড়ে গিয়েছিল। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের সিনিয়র এলএনজি অ্যানালিস্ট অ্যালেক্স ফ্রোলি জানিয়েছেন, মৌসুমের বাকি সময় এলএনজির দাম সীমিত পরিসরে ওঠানামা করবে।

তিনি বলেন, ‘‌ভারতসহ কিছু দেশের ওপর শুল্ক বাড়লে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি মন্থর হয়ে পড়লে জ্বালানির চাহিদা কমতে পারে। আবার নতুন করে জ্বালানি খাত লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদায় সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। তাই সামনের দিনগুলোয় বাজারের বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে শুল্ক এবং শান্তি আলোচনাসংক্রান্ত সর্বশেষ খবরে।

রাবোব্যাংকের এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট ফ্লোরেন্স স্মিত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকরের সময় ২১ দিন পিছিয়েছে। ফলে শুল্ক কার্যকরের আগে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও বর্তমান শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞায় গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ ঝুঁকিতে নেই। তবে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রাকৃতিক গ্যাস অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা বাজারকে অস্থিতিশীল রাখবে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্পট এলএনজির চাহিদা কমছে। কারণ কয়লার তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খরচ বেশি।

আরগাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র জানান, ইন্দোনেশিয়ায় ভারি বৃষ্টিপাতের পর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েেছ। এছাড়া দক্ষিণ চীনে তাপমাত্রা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকার কারণে এলএনজির চাহিদা কমেছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১০ ডলার ৮০ সেন্ট। একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ৪৮ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।

আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৮৩ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৭৭ সেন্ট।

স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় গত সপ্তাহে দৈনিক ৩৫ হাজার ৭৫০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় দৈনিক ৩৩ হাজার ডলারে স্থিতিশীল আছে।

আরও